হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
সাংস্কৃতিক বিনিময় বনাম সাংস্কৃতিক আগ্রাসন:
অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এই দুটি ধারণাকে গুলিয়ে ফেলেন। সাংস্কৃতিক বিনিময় একটি সক্রিয়, নির্বাচনী ও উন্নয়নমূলক প্রক্রিয়া, যা ইমামের মতে সম্মানজনক। কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হলো বিদেশি মূল্যবোধ দ্বারা দেশীয় মূল্যবোধ প্রতিস্থাপনের একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা, যা জাতীয় পরিচয় ধ্বংস করতে চায়।
সংস্কৃতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ভাগ্যনির্ধারক ক্ষেত্র:
এখানে যে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যায় না। প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, ধর্মীয় ও জাতীয় মূল্যবোধের প্রতি অনড় আনুগত্য এবং আধুনিক মিডিয়া সরঞ্জামের দক্ষতা।
শহীদ ইমাম (খামেনেয়ি) তিনটি মূল উপাদানের ওপর জোর দিয়েছেন:
· প্রথম: সংস্কৃতি মানুষের মন ও হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত। তাই এখানে কাজ মানেই হৃদয় ও মনকে সঠিক পথে গঠন করা।
· দ্বিতীয়: যে কেউ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে না। কেবল তারাই এখানে আসবেন যাদের হৃদয় দ্বীন ও দেশের জন্য স্পন্দিত হয়। যারা দেশপ্রেমিক নয়, বরং দেশ বিক্রির মানসিকতা পোষণ করে, তাদের এ ক্ষেত্রে প্রবেশ নিষেধ।
· তৃতীয়: সাংস্কৃতিক কাজের জন্য প্রয়োজন ‘জেহাদি মানসিকতা’ (আত্মত্যাগী, ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা)। আর এর সাথে জরুরি হলো ইসলামি ও জাতীয় নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্য।
শত্রুর নরম যুদ্ধের কৌশল (ব্যাঙ সিদ্ধ করার উপমা):
প্রায় ২০ বছর আগে একজন স্যাটেলাইট চ্যানেলকর্মী বলেছিল, ইরানিদের পরিবর্তন করতে হবে ‘ব্যাঙ সিদ্ধ করার পদ্ধতিতে’। হঠাৎ গরম পানিতে ফেললে ব্যাঙ লাফিয়ে বেরিয়ে যায়, কিন্তু ঠান্ডা পানিতে রেখে আস্তে আস্তে গরম করলে ব্যাঙ নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। শত্রু তরুণ প্রজন্মকে ধীরে ধীরে অনৈতিকতায় অভ্যস্ত করিয়ে সংবেদনশীলতা কেড়ে নিতে চায়।
ইরানের তামাদ্দুনিক (সভ্যতামূলক) পরিচয়:
ইরানি জাতি কেবল অর্থ-সম্পদের বিনিময়ে নিজের মর্যাদা বিক্রি করে না। উপসাগরীয় কিছু দেশের মতো বৈষয়িক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নির্ভরশীলতা গ্রহণ করে না। ইরানের সভ্যতাগত পরিচয় তাকে আত্মসম্মান রক্ষায় বদ্ধপরিকর করে তুলেছে।
হাওজায় ইলমিয়ার (ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ভূমিকা:
ইমাম খোমেনী বলেছেন, “বিশ্বের নিপীড়িতদের পক্ষে ও শক্তি-অহংকারবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দায়িত্ব ইসলামের আলেমদের” হাওজাগুলোকে এখন বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক কাজ করতে হবে, কেবল দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে।
শহীদ ইমামের সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল সাংস্কৃতি; রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে নয়:
কারণ ইরান আজ রাজনৈতিক শক্তিতে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বিশ্বশক্তিগুলো ইরানের পেছনে ছোটে, ইরান কারও পেছনে ছোটে না। অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের আশা ছিল রাইসি সরকারের মতো দক্ষ সরকারে। কিন্তু সাংস্কৃতিক চিন্তা সবচেয়ে গভীর ও জটিল।
সংক্ষেপে মূল বার্তা:
· সাংস্কৃতিক বিনিময় জরুরি, কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নামে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
· সংস্কৃতির ময়দানে অযোগ্য ও নীতিহীন ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষেধ।
· প্রয়োজন জেহাদি মানসিকতা, ধর্ম-জাতীয় মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্য এবং একটি সুসংহত কাঠামো।
· শত্রু মিডিয়া সাম্রাজ্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অনৈতিকতা ও বিচ্যুতি ছড়াচ্ছে; তার মোকাবিলায় কেবল গভীর সাংস্কৃতিক কাজই পারে টেকসই প্রতিরোধ গড়তে।
আপনার কমেন্ট